বড় পর্দায় পা রাখতে চলেছেন জুনাইদ খান। আমির খান-পুত্রের এই ছবির নায়িকা আরেক তারকা কন্যা খুশি কাপুর। নতুন এই জুটিকে অদ্ভেত চন্দন পরিচালিত লাভইয়াপা ছবিতে দেখা যাবে। জুনাইদ আর খুশি আগেই অভিনয়জগতে পা রেখেছেন।
নেটফ্লিক্সের ‘মহারাজ’ ছবিতে জুনাইদকে দেখা গিয়েছিল। আর নেটফ্লিক্সের ‘দ্য আর্চিজ’ সিরিজে অভিনয় করেছেন শ্রীদেবী-বনি কাপুরের কন্যা খুশি। তবে বড় পর্দায় এই প্রথম তাঁদের সিনেমা মুক্তি পেতে চলেছে। গত শুক্রবার মুম্বাইয়ের এক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে রোমান্টিক-কমেডি ছবিটির ট্রেলার। আসরে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং আমির খান। এদিন একদম বিন্দাস মেজাজে ছিলেন আমির। সবার সঙ্গে অকপটে ভাগ করে নিয়েছিলেন নিজের জীবনের নানা কথা।
ছবির নাম ‘লাভইয়াপা’, হয়তো এ কারণে ঘুরেফিরে আসে প্রেম-ভালোবাসার প্রসঙ্গ। ব্যক্তিগত জীবনে আমির কতটা রোমান্টিক?
অকপটে জবাব, ‘কসম, আমি খুব রোমান্টিক মানুষ। শুনে হয়তো খুব মজার লাগছে। আমার দুই সাবেক স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। তাই আমার সব প্রিয় ছবি রোমান্টিক। রোমান্টিক ছবিতে আমি হারিয়ে যাই। প্রকৃত ভালোবাসার প্রতি আমার আস্থা আছে। আমরা যেমন জীবনের পথে আরও এগিয়ে যাই, ভালোবাসাকে ঘিরে আমাদের বোধবুদ্ধি এভাবেই এগিয়ে যায়। আমি যত এগোচ্ছি, আমার মধ্যে কী কী খামতি এবং ত্রুটি আছে, তা খুঁজে পাচ্ছি। সেসব ভুলত্রুটি সংশোধন করার চেষ্টা করছি।’
আমিরের কাছে এখন প্রেমের সংজ্ঞা কী—জানতে চাইলে অভিনেতা বলেন, ‘আমার কাছে প্রেমের অর্থ হলো এমন এক আত্মার সাথিকে খুঁজে পাওয়া, যার সঙ্গে আপনি সুখী থাকবেন। আর মনে হবে আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন। আমি যখন এমন একজন মানুষকে খুঁজে পাব, তখন নিজের সঙ্গে নিজেকে সংযোগ করতে পারব।
‘লাভইয়াপা’ ছবির গল্প মুঠোফোন–বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে বোনা। এখন কেউ নিজের মুঠোফোন অন্য কারও হাতে তুলে দেন না। অন্যের সঙ্গে মোবাইলের পাসওয়ার্ড শেয়ার করেন না। আমিরকে কি কখনো মুঠোফোন–সংক্রান্ত ঝামেলায় পড়তে হয়েছে? আমির বলেন, ‘সত্যি বলতে গেলে আমি ফোন খুব একটা ব্যবহার করি না। আমার ফোন আমার কাছে থাকেই না। অন্য কারও কাছে থাকে। তাই আমাকে কখনো কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি।’ জুনাইদকে প্রেম বিষয়ে কোনো পরামর্শ দেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আমির বলেন, ‘না, প্রেমের ব্যাপারে আমি পরামর্শ নিই, দিই না।
সম্প্রতি প্রেম নিয়ে কোনো পরামর্শ কি নিয়েছেন, এমন প্রশ্নে হেসে ওঠেন আমির, বলেন, ‘অদ্ভুত প্রশ্ন করা হচ্ছে। আমি এখন কোনো প্রেমঘটিত উপদেশ নিচ্ছি না। আমি খুব মজায় আছি। আর প্রেমের মেজাজে নেই এখন। ছবিটা দেখার পর হয়তো প্রেমের মেজাজ চলে আসবে।’
অনুষ্ঠানে উঠে আসে বলিউডের প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবীর কথা। আজকের অনুষ্ঠানে শ্রীদেবী যদি উপস্থিত থাকতেন, কেমন বোধ করতেন? এ প্রশ্ন শুনে খুশির দুই চোখ জলে ভরে যায়। কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই না।
শ্রীদেবীর প্রসঙ্গ উঠতে এদিন আমিরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। শ্রীদেবীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ না পাওয়ায় আফসোস করেন। ‘আমি শ্রীদেবীর বরাবরেরই ফ্যান। সব সময় শ্রীর বিষয়ে কথা বলে এসেছি। ওনার সঙ্গে কাজ করা আমার বরাবরের স্বপ্ন ছিল।
এরপর শ্রীদেবীকন্যা খুশির প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতা বলেন, ‘এটা খুশির ছবি। আর এই মুহূর্তটা আমার জন্য বিশেষ। “লাভইয়াপা” আমি দেখে ফেলেছি। আর এ ছবিটা দেখার সময় আমার মনে হচ্ছিল যে শ্রীদেবীকে আবার পর্দায় দেখছি।’ আমির আরও বলেন, ‘তোমাদের (জুনাইদ-খুশি) দুজনের এটা প্রথম থিয়েট্রিক্যাল রিলিজ। আমি দুজনের জন্যই দোয়া করছি। আর শ্রী যেখানেই থাকুন না কেন উনি তোমাকে (খুশি) দেখে অত্যন্ত খুশি হবেন। মেয়ের জন্য গর্ব বোধ করবেন। শ্রীদেবীকে আজ অনেক গভীরভাবে স্মরণ করছি।’