প্রকৃতিতে হালকা শীত অনুভুত হচ্ছে। ভ্রমণের যাওয়ার জন্য অনেকে এই সময়টা বেছে নেন। ভ্রমণ পিপাসুদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় পাহাড় হাইকিং ও ক্যাম্পিং। তবে রোমাঞ্চকর ট্রেইলগুলোর প্রতি ধাপে ধাপেই যেন ওত পেতে থাকে হাজারও বিপদ।
পাহাড় ভ্রমণে দুর্ঘটনা নতুন কোনো ব্যাপার নয়। এজন্য নিরাপদ পাহাড় ভ্রমণে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। বৃষ্টির মৌসুমে পাহাড়ি এলাকার প্রকৃতির কারণে বেশি দুর্ঘটনা হয়। বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল, গর্ত, চূড়াসহ পাহাড়ের প্রতিটি পথ পিচ্ছিল হয়ে থাকে।
পাহাড়ে ভ্রমনের জন্য সর্বপ্রথম যে বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখা জরুরি তা হলোঃ-
০১। আবহাওয়াঃ পাহাড়ের আবহাওয়া ভীষণ খামখেয়ালি। তাই ঘুরতে যাওয়ার ব্যাগ গোছানোর আগে যেখানে যাবেন, সেই জায়গার তাপমাত্রা কেমন রয়েছে, বৃষ্টি হচ্ছে কি না, প্রচণ্ড গরম পড়ে কি না সে সব বিষয়ে ধারণা থাকা প্রয়োজন।
০২। রুট পরিকল্পনাঃ কোন স্টেশনে নামবেন, সেখান থেকে আগে কোথায় যাবেন, কোথায় থাকলে সেখানকার দ্রষ্টব্য সব কেন্দ্রগুলি কাছাকাছি পড়বে সেই সব আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখলে ঘুরতে যাওয়া সহজ হয়।
আরো পড়ুনঃ পাহাড় ভ্রমণে যে সতর্কতাগুলো মেনে চলা জরুরি
০৩। গরমের পোশাকঃ গরমকালেও পাহাড়ে ঠান্ডা থাকে। তবে কোন সময়ে ঠান্ডা কেমন থাকে, তা ইন্টারনেটে খুঁজলেই পাওয়া যায়। তাই ব্যাগ ভর্তি করে বেশি পোশাক না নিয়ে এমন পোশাক নিন, যা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পরা যায়। যদি বৃষ্টির সময়ে যান, তা হলে ছাতা-বর্ষাতি নিতে ভুলবেন না।
০৪। জুতোঃ পাহাড়ে ট্রেকিং করার জন্য আলাদা জুতো পাওয়া যায়। কিন্তু প্রথম বার গিয়েই তো আর ট্রেকিং করবেন না। তা হলে আলাদা করে জুতো লাগবে কেন? অভিজ্ঞরা বলছেন, পাকদন্ডী পথে চলতে আরাম তো লাগবেই। তা ছাড়াও পাহাড়ে ভোর এবং রাতের দিকে খুব পড়ে। অতিরিক্ত ঠান্ডা থেকে বাঁচতেও সাহায্য করবে জুতো।
আরো পড়ুনঃ পরিকল্পনা যখন বর্ষায় ভ্রমণের
০৫। বমির ওষুধঃ পাহাড়েগ ঘুরতে যাওয়ার দলে যদি শিশু বা বৃদ্ধা থাকলে তাহলে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ সঙ্গে রাখতে হবে। প্রথম বার পাহাড়ে ঘুরতে গেলে সাথে অবশ্যই বমির ওষুধ রাখবেন। কারণ, পাহাড়ি পথে প্রথম বার উঠতে বা নামতে গেলে গা গুলিয়ে, বমি হতেই পারে। কাজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হাতের কাছে ওষুধ রাখাই বাঞ্ছনীয়।
০৬। পোকামাকড় নিরোধকঃ পাহাড়ী এলাকায় ভ্রমনের পূর্বে অবশ্যই পোকামাকড় নিরোধক সঙ্গে রাখতে হবে। খুব ছোট কোন প্রাণীও বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে। পাহাড়ি এলাকার প্রাণী ও পোকামাকড় শহরের মত ঝুঁকিহীন নয়। পাহাড়ি পিঁপড়া ও মশাগুলো বেশ বিপজ্জনক হয়।