Friday, April 4, 2025
spot_imgspot_imgspot_img
Homeভ্রমণপাহাড় ভ্রমণে যে সতর্কতাগুলো মেনে চলা জরুরি

পাহাড় ভ্রমণে যে সতর্কতাগুলো মেনে চলা জরুরি

প্রকৃতিতে হালকা শীত অনুভুত হচ্ছে। ভ্রমণের জন্য অনেকে এই সময়টা বেছে নেন। ভ্রমণ পিপাসুদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় পাহাড় হাইকিং ও ক্যাম্পিং। তবে রোমাঞ্চকর ট্রেইলগুলোর প্রতি ধাপে ধাপেই যেন ওত পেতে থাকে হাজারও বিপদ।

পাহাড় ভ্রমণে দুর্ঘটনা নতুন কোনো ব্যাপার নয়। এজন্য নিরাপদ পাহাড় ভ্রমণে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। বৃষ্টির মৌসুমে পাহাড়ি এলাকার প্রকৃতির কারণে বেশি দুর্ঘটনা হয়। বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল, গর্ত, চূড়াসহ পাহাড়ের প্রতিটি পথ পিচ্ছিল হয়ে থাকে।

স্থানীয়রা এই অবস্থায় রাস্তা খুব ভালো করে চেনা থাকার পরেও বিপদে পড়েন। আর রাস্তা না চেনা পর্যটকদের জন্য দুর্ঘটনার কবরে পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার। এই কারণে বৃষ্টির দিন পাহাড় ভ্রমণে অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই স্থানীয় তাপমাত্রা জেনে নেয়া যায়, কাজেই পাহাড়ে ভ্রমণকারীদের যাত্রার শুরুতেই পাহাড়ি এলাকার আবহাওয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

পাহাড়ি এলাকার রাস্তা ভেজা আবহাওয়ায় পিচ্ছিল হয় সেই সাথে গন্তব্য পর্যন্ত যাওয়ার দীর্ঘ পথটুকুও দুর্গম হয়ে ওঠে।

পাহাড়ি এলাকার ক্ষেত্রেও পোশাক বিশেষভাবে বেছে নিতে হবে। ভ্রমণের যাওয়ার আগেই পোশাক ও জুতা কিনে রাখতে হবে। ক্লান্তিকর হাইকিং-এর সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য শরীরকে আরামদায়ক রাখতে উপযুক্ত পোশাক এবং জুতা সঙ্গে নেয়া জরুরি।

শীতেকালে কাপড়-চোপড় বেশি লাগে তার মানে এই না যে ব্যাগ ভর্তি করে যাত্রা করতে হবে। ব্যাগে প্যাক করা সমস্ত কিছু নিজেকেই বহন করতে হবে, কাজেই পাহাড়ে চড়ার জন্য হালকা থাকা আবশ্যক।

ভ্রমণের জন্য যাবতীয় গ্যাজেট থেকে যেগুলো না নিলেই নয় সেগুলোই শুধু নিতে হবে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে-ভ্রমণকারীর জন্য ব্যাগের ওজনটি সহজে বহন করার মত হচ্ছে কিনা।

অনেকে তাড়াতাড়ি শর্টকাটে যাওয়ার জন্য বিপজ্জনক রাস্তা বেছে নেয়। ভ্রমণকালে মনে রাখতে হবে পর্বতগুলো কিন্তু কোথাও চলে যাচ্ছে না।

তাই সতর্কতামুলক কাজে দেরি হলে কোন সমস্যা নেই। বরং তা অনেক খারাপ পরিস্থিতি থেকে বাঁচাবে। সবচেয়ে ভালো হয় একজন পেশাদার গাইডকে সঙ্গে রাখা।একজন পর্বত আরোহীর দক্ষতা যে স্তরেরই হোক না কেন, প্রতিটি যাত্রাই ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকির হাতছানি দেয়।

পর্বতারোহণের সময় সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরে খাদ্যের ভালো যোগান অপরিহার্য। হাইকিং করার সময় সাধারনত ৩০০০ থেকে ৬০০০ ক্যালোরি খরচ হতে পারে, যা দ্রুত পুষিয়ে নেয়া দরকার। কাজেই বিভিন্ন ফলমূলের পাশাপাশি হালকা খাবার সঙ্গে নিয়ে নিতে হবে।

পর্যাপ্ত পানির চাহিদা পূরণের জন্য একটি রিফিল-যোগ্য পানির বোতল সঙ্গে রাখা যেতে পারে। যে কোন দীর্ঘ ভ্রমণের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হাইড্রেটেড থাকা এবং শক্তি বজায় রাখার জন্য খাবার খাওয়া।

ভ্রমণকে নিরাপদ, সতেজ ও আনন্দদায়ক করে তোলার জন্য হাইকিংয়ের সময় বিশ্রামের জন্য সময় নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এক জোড়া সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন সঙ্গে নিলে সূর্যের অতিরিক্ত তাপ থেকে বাঁচতে পারবেন। এর থেকেও দরকারি জিনিস হলো পাওয়ার ব্যাঙ্ক এবং ফ্ল্যাশলাইট সঙ্গে রাখা।

একটি পিচ্ছিল পাথর বা কাঁদা মাটিই যথেষ্ট গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য। সেজন্য পাহাড়ি রাস্তায় চলার সময় প্রতিটি পদক্ষেপে মনোযোগ দিতে হবে। একটি ছোট ভুল পদক্ষেপের জন্য মারাত্মক বিপদের মধ্যে ফেলে দিতে পারে।

কাজেই নিরাপদে থাকার জন্য প্রয়োজনে গতি কমিয়ে দেয়া যেতে পারে। ঘন ঝোপ-ঝাড়, গর্ত, পিপড়ার ঢিবি, ঝিরি পথ পেরনোর সময় সতর্ক থাকা উচিত।

খুব ছোট কোন প্রাণীও বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে। পাহাড়ি এলাকার প্রাণী ও পোকামাকড় শহরের মত ঝুঁকিহীন নয়। পাহাড়ি পিঁপড়া ও মশাগুলো বেশ বিপজ্জনক হয়।

পোকামাকড় নিরোধক সঙ্গে নেওয়ার পরেও সতর্ক থাকতে হবে। কোন কোন এলাকাগুলোয় এই ধরণের উপদ্রব বেশি তার জন্য গাইড বা স্থানীয়দের সাহায্য নেয়া উচিত।

সম্পর্কিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয়

সর্বশেষ মতামত